চিকনগুনিয়ার ভয়াবহতা!! প্রতিকার ও প্রতিরোধ।

চিকনগুনিয়ার ভয়াবহতা!! প্রতিকার ও প্রতিরোধ।

চিকনগুনিয়া মশাবাহিত জ্বর। ডেঙ্গু জ্বরের মতো এটারও বাহক এডিস মশা। তবে চিকিৎসকরা বলছেন, ডেঙ্গুর মত চিকনগুনিয়া প্রাণঘাতি নয়। তাই এ নিয়ে ভীতির চেয়ে বেশি প্রয়োজন সচেতনতা। আপনার চিকনগুনিয়া হয়েছে কি না তা আগে নিশ্চিত হতে হবে। তারপর এর জরুরি চিকিৎসা করা হতে।

তবে চিকনগুনিয়া রোগ হলে চিকিৎসার পাশাপাশি রোগীর পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত করতে হবে। কোনোভাবেই যেন রোগীকে অ্যান্টিবায়োটিক দেয়া না হয়, সেজন্য বিশেষ পরামর্শ চিকিৎসকদের। তবে তার আগে চলুন জেনে নিই রোগটি সম্পর্কে।

চিকনগুনিয়া

চিকনগুনিয়া কী?
চিকনগুনিয়া প্রথম দেখা যায় আফ্রিকান দেশ তানজানিয়াতে। তাই এই রোগের নাম ‘চিকনগুনিয়া’। শব্দটিও এসেছে তানজানিয়ার ভাষা থেকে। ‘চিকনগুনিয়া’ শব্দটির অর্থ বেঁকে যাওয়া। এই রোগে আক্রান্ত রোগীদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বেঁকে যাওয়ার কারণেই এ রকম নামকরণ। এর ভাইরাসটি মূলত আফ্রিকান হলেও বাংলাদেশে চিকনগুনিয়া আসে ভারতের কলকাতা থেকে।

মেডিসিন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেক আগে থেকেই বাংলাদেশে ডেঙ্গু (এডিস মশা) আছে। এর বাহক Adese Aegypti (এডিস ইজিপট) মশাই চিকনগুনিয়া জ্বরের ভাইরাসের বাহক। তাই বাংলাদেশে ডেঙ্গুর নির্যাস রয়েই গেছে। বৃষ্টির পানি যেখানে জমা হয় সেখানে ডিম ফুটে বাচ্চা দিচ্ছে এই মশাগুলো। তবে চিকনগুনিয়া ভাইরাসটি ভারতের কলকাতা থেকে এদেশে এসেছে।

যেভাবে আক্রান্ত
চিকনগুনিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিকে যদি অন্য কোনো মশা কামড়ায়, তবে সেই মশার শরীরে চিকনগুনিয়ার ভাইরাস প্রবেশ করবে। এবার সেই মশা যদি অন্য কোনো ব্যক্তিকে কামড়ায় তবে সেই ব্যক্তিরও চিকনগুনিয়া হওয়ার আশঙ্কা থাকে শতভাগ। এভাবে আর দশটা মশা আক্রান্ত ব্যক্তিদের কামড়ালে সেই দশটা মশা থেকে চারদিকে মানুষ ও মশাগুলোর শরীরে চিকনগুনিয়া ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। এটাই ভাইরাল।

চিকনগুনিয়ার লক্ষণ
১. ভীষণ জ্বর হয়, যেটা ১০৪ ডিগ্রি হবে।
২. শরীরের প্রত্যেক জোড়ায় জোড়ায় অসহনীয় ব্যথা। হাত ও পা বেঁকে যায়। ব্যথার কারণে হাতের আঙুল, পায়ের আঙুল ও জোড়া ফুলে যায়।
৩. হাঁটু ও পায়ের পাতায় অসহ্য ব্যথার কারণে হাঁটা খুব কষ্টকর হয়ে পড়ে। তাই খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটতে হয়।
৪. সারা গায়ে একেবারে পা থেকে মাথা পর্যন্ত লাল লাল দাগ দেখা যায়। এগুলো প্রথম দিকে খুব চুলকায়।
৫. অনেকের ক্ষেত্রে মেরুদণ্ডে ব্যথা হতে পারে। ব্যথার কারণে বিছানা থেকে ওঠা খুব কঠিন হয়ে পড়ে।

চিকনগুনিয়ার চিকিৎসা
আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁটা চলা একেবারেই নিষেধ। তবে বিশেষ প্রয়োজনে হাঁটতে হলেও সিঁড়ি বেয়ে উঠা-নামা সম্পূর্ণ নিষেধ। রিকশা বা গাড়িতে উঠতে হলে ফুটপাতের মতো উঁচু অংশ ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিকনগুনিয়ার লক্ষণগুলো আপনার মধ্যে দেখা গেলে বুঝে নিবেন যে আপনি আক্রান্ত হয়েছেন। তবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য অস্থির হবেন না। চিকনগুনিয়া জ্বর সাত থেকে আট দিনের মধ্যে ভালো হতে পারে।

তবে এই কয়েক দিন শরীরের জয়েন্টে জয়েন্টে খুব ব্যথা থাকবে। এর প্রকোপ প্রায় দুই সপ্তাহ পর্যন্ত থাকতে পারে। অনেক চিকিৎসক প্যারাসিট্যামল ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু জ্বর কমানোর জন্য এখনো পর্যন্ত কোনো ওষুধ আবিষ্কার হয়নি। তবে ব্যথার কমানোর জন্য কোনোভাবেই অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করা যাবে না।

চিকনগুনিয়ায় মৃত্যুঝুঁকি নেই
এডিস মশা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে দিয়ে কমতে পারে চিকনগুনিয়ার প্রাদুর্ভাব। তাই ঘরের টবের পানিসহ বাড়ির আশেপাশে ছোট জলাধার প্রতিদিন পরিষ্কার রাখার পরামর্শ দিয়ে চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, চিকনগুনিয়া জ্বরে আক্রান্ত হলে ভয়ের কিছু নেই। এই ভাইরাস জ্বরে কোনো মৃত্যু নেই, তবে দুর্ভোগটা খুব বেশি হয়।

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *