পাউরুটি, বাটার নান, লুচি, পরোটার ভিড়ে আজকাল রুটি যেন অনেকটাই অবহেলিত। কেননা রুটি মেলে না হোটেলে বা দোকানে, তাই নিজেকেই কষ্ট করে বানিয়ে নিতে হয় । কিন্তু জানেন , এই হাতে তৈরি করা রুটির মধ্যে আছে অত্যন্ত চমৎকার সব স্বাস্থ্য গুণাগুণ। রুটিতে থাকে ভিটামিন ই, ফাইবার ও সেলেনিয়াম যা শরীরের ক্যান্সার ঝুঁকি কমাতে সাহয্যে করে। রুটিতে দ্রবণীয় ফাইবার কোষ্ঠ্যকাঠিন্য সমস্যা দূর করতে সহায়তা করে। ওজন কমাতেও অত্যন্ত সহায়ক।
রুটি ছাড়া সকালের নাস্তা হয় কি?রোজ সকালে প্রায় প্রত্যেক ঘরে ঘরেই তো রুটি তৈরি হয় । সাথে থাকে নানা রকম সবজি, ডিম ভাজি কিংবা ভুনা মাংস। বিভিন্ন বাসায় আবার রুটির আকৃতিও হয় বিভিন্ন রকম। কোনো বাসায় বিশাল বড় রুটি বানানো হয় আবার কোনো বাসায় ছোট ছোট অনেক গুলো। ভারত ও পাকিস্তানে সকালের নাস্তায় রুটিই প্রধান খাবার। আজকাল পাউরুটি, বাটার নান, লুচি, পরোটার ভিড়ে রুটি যেন অনেকটাই হারিয়ে যাওয়ার মত।

জেনে নিন রুটি খাওয়ার স্বাস্থ্য উপকারিতাগুলো।
আঁশযুক্ত শস্য!
লাল আটার রুটি স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী। লাল আটায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাদ্য উপাদান। লাল আটার রুটি পছন্দ না হলে সাদা আটার রুটিই খেতে পারেন। কারণ সাদা আটাতেও রয়েছে প্রচুর পুষ্টিগুণ শরীরে শক্তি বাড়ায় এবং রক্ত চলাচল বাড়িয়ে শরীরকে সচল রাখে।
সহজে হজম হয়
অনেকের কিছু খেলেই হজম সমস্যায় ভোগেন। যারা কিছু হজম করতে পারেন না সহজে সকালের নাস্তায় রুটি বেছে নিতে পারেন তাঁরাও। কারণ আঁশযুক্ত গম দিয়ে তৈরি হয় রুটি এবং সহজেই হজম করা যায় এটা ।

কোষ্ঠ্যকাঠিন্য কমায়
রুটিতে থাকা দ্রবণীয় ফাইবার কোষ্ঠ্যকাঠিন্য সমস্যা দূর করতে সহায্যে করে। পায়খানাকে নরম করে এবং সহজেই বের হতে সাহায্য করে দ্রবণীয় ফাইবার । কোষ্ঠ্যকাঠিন্য সমস্যা দূর হয় ফলে।
কম ক্যালোরি
কোনো তেল বা ঘি লাগে না রুটি ভাজতে । তাওয়ায় সেঁকেই রুটি তৈরি করে ফেলা হয়। রুটিতে অতিরিক্ত কোনো ক্যালোরি যুক্ত হয় না। পরোটার বদলে সকালের নাস্তায় নিয়মিত রুটি খাওয়ার অভ্যাস করতে পারেন যারা ওজন সমস্যায় ভুগছেন তাঁরা । বেছে নিন সবজি ভাজি মাংসের বদলে । তাহলে ওজন কমে যাবে সহজেই।
পুষ্টিকর
একটি পুষ্টিকর খাবার হলো রুটি। সকালের নাস্তায় রুটি রাখলে সারাদিন শরীরে প্রচুর শক্তি পাওয়া যায়। ১০০ গ্রাম রুটিতে আছে ১৭০ ক্যালোরি, ১.৫৫ গ্রাম ফ্যাট, ৩২.৫ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট ও ৫.৮৪ গ্রাম প্রোটিন।
ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়
রুটিতে থাকা ভিটামিন ই, ফাইবার ও সেলেনিয়াম ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে। তাই প্রতিদিনের খাবার তালিকায় রুটি রাখুন।