Providing a broad selection of health products and medical essentials with easy, nationwide delivery in Bangladesh.

Hotline: 01405100400

মাথা ব্যথায় ভুগছেন? জেনে নিন এর বিস্তারিত! I Medistorebd.com

মাথা বা ঘাড়ের কোনো এলাকার ব্যথার উপসর্গকে মাথাব্যথা বলা হয়।

এটি মাথার এক দিকে অথবা দুই দিকেই হতে পারে, একটি বিন্দুতে হতে পারে কিংবা একটি বিন্দু থেকে চারদিকে ছড়িয়ে পড়তে পারে। অধিকাংশ মাথাব্যথা তীক্ষ্ণ কিংবা নিস্তেজ হয় এবং কয়েক মিনিট থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত থাকতে পারে। একটি মাথাব্যাথার মূল্যায়ন সহজ বা কঠিন কাজ হতে পারে। যদিও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মাথাব্যথা ক্ষতিকারক নয়, কিন্তু কোন কোণ ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুতর অসুখের ইঙ্গিত দেয়। মাথা ব্যাথা মুখ্য বা গৌণ হতে পারে। মুখ্য মাথাব্যথার কোন কারণ জানা থাকে না; আবার মাথাব্যথা যখন অন্য অসুখের কারণে হয় যা থেকে মাথার ভিতরে কোন ট্র্যাকশান বা প্রদাহ হয়। বিভিন্ন প্রকারের মাথাব্যথার লক্ষণগুলি নির্দিষ্ট হয়, সেগুলি অনন্য ভাবে ঘটে। সুতরাং এর জন্য মাননসই চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।

 

মাথা ব্যথার উপসর্গঃ

বিভিন্ন প্রকারের মাথাব্যথার বিভিন্ন ধরণের চরিত্রগত নিদর্শন থাকে। মাথাব্যথার ধরণ সনাক্ত করে ডাক্তাররা মাথাব্যথার সম্ভাব্য প্রকার নির্ণয় করেন এবং আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

কয়েকটি সাধারণ প্রকারের মাথাব্যথা এবং তাদের উপসর্গগুলি হল-

মাইগ্রেনঃ মাইগ্রেন বংশগত রোগ। মাইগ্রেন হওয়ার আগে একটি সম্পূর্ণ ভাবে প্রতিবর্তনযোগ্য স্নায়বিক উপসর্গ দেখা দেয় যা চাক্ষুষ দেখা যায় বা অনুভব করা যায়। মাথাব্যথা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে; তারপর কমতে থাকে – যাকে ‘অরা’ বলা হয়। এইগুলি আরও চিহ্নিত করা হয় বিভিন্ন মাত্রার পুনরাবৃত্তি মাথাব্যথা দিয়ে, আলোর প্রতি সংবেদনশীলতা দিয়ে, ঘুমের বিঘ্নের ধরণ দিয়ে এবং মানসিক অবসাদ দিয়ে।

টেনশানের মতন মাথাব্যথাঃ এটি মাথাব্যথার একটি খুব সাধারণ রূপ, যা জীবনকালের প্রায় 80% সময়েই থাকে। এই নিস্তেজ মাথাব্যথা সাধারণত মাথার দুই দিকেই হয়। এদের তীব্রতা খুব কম থেকে মাঝামাঝি। এই মাথাব্যথা মাঝে মাঝে, ঘন ঘন, বা দীর্ঘস্থায়ী হয়।

ক্লাস্টার মাথাব্যথাঃ ক্লাস্টার মাথাব্যথা হঠাৎ শুরু হয়। মুখমণ্ডলের মধ্য ও উপরের ভাগ এবং চোখের চারপাশে এই ব্যথা হয়। দিনে ১-৮ বার এই ব্যথা হয় এবং চলে সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত। মাঝে মাঝে ব্যথা একদম থাকে না। এই ব্যথা না থাকার কাল কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর হতে পারে। এই জ্বালা ধরানো ব্যথা হঠাৎ হয় এবং ১৫ মিনিট থেকে ৩ ঘণ্টা অবধি স্থায়ী হয়। কখনও এই ব্যথা ২৪ ঘণ্টা বাদে বাদে হয় – তাই একে ‘এলার্ম ঘড়ি মাথাব্যথা’ বলা হয়। এই ব্যথা হলে চোখে জল আসে, নাক বন্ধ হয়ে যায় এবং অনিদ্রা হয়।

সাইনাস মাথাব্যথাঃ এই ব্যথার সাধারণ লক্ষণগুলি হল মুখমণ্ডলে ব্যথা বা চাপ ভাব, বন্ধ নাক এবং সাইনাস এবং তার সাথে মাথাব্যথা। ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের পর সাধারণত এই ব্যথা দেখা যায়। এর সাথে নাক থেকে ঘন সর্দি পড়ে, গন্ধের অনুভূতি কমে যায় বা একেবারে থাকে না, মুখমণ্ডলে ব্যথা-চাপ এবং জ্বর হয়। এন্টিবায়োটিক নিলে এক সপ্তাহের মধ্য এই অসুখ সেরে যায়।

বজ্রপাত-এর মত মাথাব্যথাঃ এই গুরুতর এবং তীব্র ব্যথা শুরু হয় হঠাৎ বা ধীরে ধীরে। এটি মুখ্য বা গৌণ হতে পারে। গৌণ কারণগুলি হতে পারে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, মস্তিষ্কের চাপ হটাৎ কমে যাওয়া এবং রক্ত-চাপ বেড়ে যাওয়া।

নতুন দৈনিক স্থায়ী মাথা ব্যাথাঃ এটি একটি স্থায়ী মাথা ব্যথা যা রোজ হয় এবং যা পরিষ্কার মনে থাকে। এই ব্যথার কোন বৈশিষ্ট্য নেই। এটি মাইগ্রেন বা টেনশান মাথাব্যথার মত। ৩ মাস বা তার বেশি সময় ধরে এর উপসর্গ থাকলে তবেই একে নির্ণয় করা যায়।

হেমিক্র্যানিয়া কনটিনিউয়াঃ এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী রোগ যা প্রতিদিন হয়। এটি হয় মাথার একদিকে এবং এর তীব্রতা মাঝারি ধরণের। এই মাথাব্যথার সাথে চোখ লাল হয়ে যায় এবং ছলছল করে, নাক বন্ধ হয়ে যায় বা সর্দি হয়। চোখের পাতা ঢলে পড়ে যেমন ক্লাস্টার মাথাব্যথায় হয়।

গৌণ মাথাব্যথাঃ যখন একটি মাথাব্যথা কোন মূখ্য শ্রেণির মধ্যে পড়ে না, কিন্তু পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে থাকে, তখনই সাবধান হতে হবে এবং এর অন্তর্নিহিত কারণটিকে খুঁজে বার করতে হবে। গৌণ মাথাব্যথাগুলির কোনও বৈশিষ্ট্য থাকে না।

 

 

মাথা ব্যথার চিকিৎসাঃ

যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা শুরু করাই হল অবস্থার মোকাবিলা করার সর্বোত্তম রাস্তা। উপসর্গগুলি পরীক্ষা করে ডাক্তারবাবু নিচের যে কোন একটি চিকিৎসা ব্যবস্থার সুপারিশ করতে পারেন-

স্বশিক্ষিত হোনঃ সফল চিকিৎসার একটি চাবিকাঠি হল মাথাব্যথার ধরণ সম্পর্কে নিজেকে শিক্ষিত করে তোলা। আপনার ডাক্তার আপনাকে মাথাব্যথার একটি ডায়েরি দিয়ে রোগের বিস্তারিত বিবরণ লিখে রাখতে বলতে পারেন। তাতে এও লিখবেন যে কি কারণে মাথাব্যথা শুরু হল, আরাম পাওয়ার জন্য কি কি করেছেন এবং আর কি কি ঘটনা ঘটেছে।

চাপ নিয়ন্ত্রণঃ আগে যেমন বলা হয়েছে যে আজকের যুগে মাথাব্যথা শুরু হওয়ার সব চেয়ে সাধারণ কারণ হল চাপ। আপনার ডাক্তার চাপ হ্রাস করার করার কার্যকরী পদ্ধতিগুলি সুপারিশ করতে পারেন যেমন যোগ ব্যায়াম, ধ্যান, গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসে ব্যায়াম, সুগন্ধ দিয়ে চিকিৎসা, সঙ্গীতের মাধ্যমে চিকিৎসা অথবা পোষা প্রাণী নিয়ে চিকিৎসা।

ওষুধের জন্য আপনার ডাক্তারকে জিজ্ঞাসা করুনঃ যদি উপসর্গগুলি খুবই তীব্র হয় বা দীর্ঘস্থায়ী হয় তাহলে আপনার ডাক্তারবাবু ওষুধের বিধান দিতে পারেন। সাধারণত এই ওষুধগুলিকে তিনটি শ্রেণীতে ভাগ করা যায়:

উপসর্গ অনুযায়ী ওষুধঃ এইগুলি খুবই সহজ বাজার চলতি ওষুধ, যেমন প্যারাসিটামল, এসপিরিন বা ইবুপ্রোফেন। তবে মনে রাখতে হবে অধিক মাত্রায় ওষুধ ভাল’র চেয়ে খারাপ বেশি করতে পারে। কাজেই সব চেয়ে ভাল হল ডাক্তারের কাছ থেকে এইগুলির নিরাপত্তার তথ্যগুলি জেনে নেওয়া।

ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণ করতে ঘরে আনুন ব্লাড প্রেশার মনিটর।

ব্যর্থকারী ওষুধঃ নাম থেকেই বোঝা যাচ্ছে যে মাথাব্যথার প্রথম লক্ষণগুলি দেখা দিলেই এই ওষুধগুলি ব্যথার বৃদ্ধিকে বাধা দেয়। এই ধরণের ওষুধের মধ্যে আছে ইনজেকশান দেওয়ার জন্য এরগোটামিন এবং সুমাট্রিপিন। তবে এইগুলি কিনতে হলে ডাক্তারবাবুর প্রেসক্রিপশন প্রয়োজন হবে।

প্রতিরোধকারী ওষুধঃ মাথাব্যথা যদি খুব তীব্র হয় বা বারে বারে হতে থাকে, তাহলে এই ওষুধগুলি ব্যবহার করা হয়। এদের মধ্যে আছে এন্টিডিপ্রেসান্ট, যেমন এমিট্রিপটাইলিন; ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকারস, যেমন এমলোডিপিন; এন্টিহিস্টামিনস, যেমন ফেনিরামিন; এবং এন্টিকনভালস্যানটস, যেমন ভালপ্রোয়েট। এইগুলি ডাক্তার প্রেসক্রাইব করবেন এবং সাবধানে ব্যবহার করতে হবে।

বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতি চেষ্টা করুনঃ নতুন নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি আছে। সাধারণত প্রথাগত চিকিৎসার সাথে সাথে অথবা তার প্রভাব বৃদ্ধি করতে এই বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যবহার হয়। এদের মধ্যে আছে:

  • আকুপাঙ্কচার
  • মস্তিষ্কের গভীরে উদ্দীপনা সৃষ্টি
  • বায়োফিডব্যাক
  • পেশির প্রগতিশীল শিথিলকরণ
  • পরামর্শ-সূচক চিকিৎসা
  • জীবনধারার পরিবর্তন

যেহেতু মাথাব্যথা খুব সাধারণভাবে জীবনধারা এবং অভ্যাসের সাথে সম্প্রীত, তাই মাথাব্যথা না হতে দেওয়ার সর্বোত্তম উপায় হল জীবনধারাতে ছোট ছোট পরিবর্তন আনা। এই পরিবর্তনগুলির কয়েকটি হলঃ
  • নিয়মিত ঘুম
  • নিয়মিত আহার
  • নিয়মিত শরীরচর্চা
  • মাথাব্যথা শুরু করতে পারে এমন সব কিছু কে এড়িয়ে চলা
  • চাপ নিয়ন্ত্রণ
  • ওজন হ্রাস করা (যদি প্রয়োজন হয়)
  • ক্যাফিন পরিহার

ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যাবহার করুন এনালগ/ডিজিটাল ওয়েট স্কেল

Scroll to Top